ads
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বিচার বিভাগ সংস্কারে প্রস্থাব

অনলাইন ডেস্ক

বিচার বিভাগ সংস্কারে প্রস্থাব

16px

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। তাই অন্য কোনো সংস্কারের আগে বিচার বিভাগের সংস্কার সবচেয়ে জরুরি। এই সংস্কার কার্যকর করতে হলে বিচারক নিয়োগ ও অপসারণের পদ্ধতিকে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপমুক্ত করতে হবে।

বিচারক নিয়োগ বা অপসারণে আইন মন্ত্রণালয়, নির্বাহী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি সহ কেউ যাতে কোনো হস্তক্ষেপ করতে না পারেন সে জন্য বিচারক নিয়োগ ও অপসারণের পদ্ধতি সম্পর্কে আমি কিছু প্রস্তাব দিচ্ছি এই প্রস্তাবগুলো হুবহু বা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রথমে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করছি। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের জন্য নিম্নোক্ত ২ টি পদ্ধতির যে কোনো একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। (১) প্রধান বিচারপতির পদ খালি হলে আপিল বিভাগে সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালনকারি বিচারক অটো প্রমোশন হয়ে প্রধান বিচারপতি হবেন।( ২) হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিগণ প্রকাশ্যে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি নির্বাচিত করবেন। কোনো গোপন ভোট নয় আমি প্রকাশ্য ভোটের কথা বলছি। এই ভোট লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করলে জনগণের মধ্য আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

প্রধান বিচারপতির পরে আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ / অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ। আপলি বিভাগের বিচারপতি নিয়োগের ৩ টি পদ্ধতি প্রস্তাব করছি এর মধ্যে যে কোনো একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। (১) প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের বিচারকদের মধ্যে থেকে যে কাওকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিবেন। (২) হাইকোর্টে সবচেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালনকারী বিচারপতি অটো আপলি বিভাগে খালি থাকা পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন। (৩) হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিগণ এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিগণ পরীক্ষা/ ভোটের মাধ্যমে আপিল বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ দিবেন।

৩য় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বহচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিয়োগ/ অপসারণ। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নিয়োগের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিগণ পরীক্ষা নিবেন। প্রতি শূন্য আসনের বিপরীতে ৩ জনের নাম প্রস্থাব করবেন। উক্ত ৩ জনের মধ্যে থেকে প্রধান বিচারপতি ১ জন নিয়োগ দিবেন। 

৪র্থ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগ।
ম্যজিস্ট্রেট, সহকারী জজ সহ নিম্ন আদালতের সকল বিচারক প্রধান বিচারপতি বা অবসরপ্রাপ্ত  বিচারপতিগণ নিয়োগ দিবেন।

প্রধান বিচারপতিসহ যে কোনো বিচারক -কে স্থায়ী বা সাময়িক অপসারণ করতে হলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিগণ ভোট দিবেন, অপসারণের পক্ষে বেশি ভোট পড়লে অপসারণ কার্যকর হবে। এছাড়া সংসদে সংসদ সদস্যদের বেশির ভাগের ভোটে ২বছর পর্যন্ত যে কোনো বিচারপতিকে অপসারণ করার বিধান রাখতে হবে। একেত্রে ২বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদে অপসারণের জন্য সংসদ সদস্যদের কমপক্ষে ১৫১টা ভোট  বিচারপতি অপসারণের জন্য পড়লে অপসারণ কার্যকর হবে। সংসদ কোনো বিচারপতিকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে পারবে না। তবে অস্থায়ী ভাবে সর্বউচ্চ ৩ বার বহিষ্কার করতে পারবে। এই বিধান রাখলে ক্ষমতা ব্যালেন্স হবে।

বিচার বিভাগ সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত করার জন্য দেওয়ানী কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধিসহ সকল আইনে যেখানে সরকার -কে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সেই জায়গায় সরকারের পরিবর্তে প্রধান বিচারপতি/ সুপ্রিমকোর্ট -কে ক্ষমতা দিতে হবে। এতে বিচারবিভাগ সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত হবে।

স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠন করতে হলে সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ৯৫, ৯৬, ৯৭, ৯৮, ১১৫, ১১৬, ১১৭ ও ১৩৩ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন করে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত যুক্তিযুক্ত পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ।

এই লেখায় প্রাথমিক কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করলাম
। পরবর্তীতে সুযোগ পেলে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশাকরি বিচার বিভাগের সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সুশিল সমাজের প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন সংস্থা, মিডিয়া, বিচার বিভাগ এগিয়ে আসবে। গড়ে উটবে একটি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও আস্থাশীল বিচার ব্যবস্থা।

এই বিভাগের আরও খবর

dainikamarbangla

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ